টাঙ্গাইলে ইমন হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও কাউন্সিলর আটক আওয়ামী লীগ নেত্রী ডাঃ আফরোজা লন্ডনে পলাতক - TangailTimes24
  • সংবাদ শিরোনাম

    টাঙ্গাইলে ইমন হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও কাউন্সিলর আটক আওয়ামী লীগ নেত্রী ডাঃ আফরোজা লন্ডনে পলাতক

    ডেক্স নিউজ:


    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার হয়েছে এবং কয়েকজনের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। আটককৃতদের মাঝে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি ছাড়াও সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর রয়েছে। এদিকে মির্জাপুর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আফরোজা আক্তার লন্ডনে বেড়াতে যাবার পর তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলেও তাকে খুজে পাওয়া যােেচ্ছ না। কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, ডাঃ আফরোজা ছুটিতে লন্ডনে বেড়াতে গেলে এখানো সে ফিরে আসেনি। 

     

    টাঙ্গাইলে ইমন হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও কাউন্সিলর আটক আওয়ামী লীগ নেত্রী ডাঃ আফরোজা লন্ডনে পলাতক
     পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে কলেজছাত্র ইমন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইমন মারা যান। এ ঘটনায় নিহত ইমনের ভাই সুমন বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় ১৯ আগস্ট হত্যা মামলা করেন। এতে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করা হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর টাঙ্গাইল আদালতে হাজির করে আব্দুর রাজ্জাককে ইমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


    এদিকে একই বছর ৬ সেপ্টেম্বর নিহত কলেজছাত্র ইমনের হত্যা মামলায় বাদশা মিয়া নামে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে পরেরদিন তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ওই ইউনিয়নের ডোকলাহাটী গ্রামের হাকিম মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি।


    অন্যদিকে ওই বছরের ৪ অক্টোবর নিহত কলেজছাত্র ইমনের হত্যা মামলায় মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল খান ও পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আরিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৌর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


    এছাড়া ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলার দেলদুয়ার ও মির্জাপুর থেকে ইমন হত্যা মামলায় জড়িত থাকা আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, র‌্যাব-১৪, সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম। র‌্যাব অফিসাররা জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রির এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকুল্ল্যা-বাইপাস সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই দিন জেলার মির্জাপুর উপজেলার দুল্লাবেগম এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম বাচ্চুকে (৬৪) গ্রেফতার করে র‌্যাব।


    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কলেজ ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের আটকের অংশ হিসেবে গত বছরের ১৪ মে  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিন্টু তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত পিন্টু তালুকদার বানাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সে গল্লী গ্রামের আব্দুল বাছেদ তালুকদারের ছেলে। 


    একই মামলার আসামী মির্জাপুর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আফরোজা আক্তারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয় এ বছরের ২১ এপ্রিল। এরপর থেকে তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তার বাসায় এবং তার কর্মস্থল মির্জাপুর কুমুদিনী মেডিকেল কলেজে কয়েকবার হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, লন্ডনে ছুটিতে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ অভিযুক্ত ডাঃ আফরোজাকে পলাতক হিসেবে আদালতে রিপোর্ট করেছে। 


    নিহত ইমন গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন মণ্ডল বাড়ি এলাকার জুলহাস মিয়ার ছেলে। তিনি অলোয়া মনিরুজ্জামান খান বিএম কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করে হেমনগর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728