সখীপুরে বসতঘরে আগুন, সন্দেহের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের
সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালা এলাকায় বসতঘরে
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরমান আলী খানকে সন্দেহ
করায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি । একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের
মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন
তিনি।
তিনি
বলেন, গত শুক্রবার গভীর রাতে উখারিয়াচালার বাসিন্দা লাল মিয়া ওরফে নালুর
বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, সুষ্ঠু
তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে জমি
সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনায় সন্দেহ করা
হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরমান
আলী খান বলেন, তিনি একজন শিক্ষক এবং উখারিয়াচালা সমাজের সভাপতি।
অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় তাকে সন্দেহ করায় তিনি সামাজিকভাবে অপমানিত ও
মর্মাহত হয়েছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়া তাকে হয়রানি বা মামলায় জড়ানো না হয়—এমন
দাবি জানান তিনি।
সংবাদ
সম্মেলনে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আরমান বলেন, ১৯৮৩ সালে জবেদ আলী
ওরফে মিলন মিয়ার কাছ থেকে তার দাদারা ৩০০ শতাংশ জমির বিনিময়ে ১১৫ শতাংশ জমি
রেওয়াজ দলিলের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে তারা ঘরবাড়ি ও মসজিদ
নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তবে দলিল অনুযায়ী ১১৫ শতাংশ জমি থাকলেও
বাস্তবে তারা আনুমানিক ৯০ শতাংশ জমি বুঝে পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার
ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর মিলন মিয়ার সন্তানেরা ওই জমি নিয়ে দাবি তুলে তাদের
বিরুদ্ধে পরপর পাঁচটি মামলা করেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় ইতোমধ্যে তাদের
পক্ষে রায় হয়েছে। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের সন্দেহ করা অযৌক্তিক
বলেও দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়ে তিনি
বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, আগুন কীভাবে লেগেছে এবং ঘটনাস্থলে কোনো আলামত
রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘অপরাধী যে-ই হোক, আমরা তার বিচার চাই। তবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের হয়রানি করে, সেটি আমরা চাই না।’
এ
বিষয়ে আরমান আলী খান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে বৈধ কাগজপত্রের
মাধ্যমে যার অধিকার প্রমাণিত হবে, তা তারা মেনে নেবেন। তবে জমি নিয়ে
বিরোধের জেরে মামলা, হয়রানি ও সামাজিকভাবে মানহানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ
করে এর প্রতিকার দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য,গত
শনিবার (২২ আগস্ট) গভীর রাতে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের
গড়গোবিন্দপুর উখারিয়াচালায় লাল মিয়ার বসতঘরে আগুন লাগে। এ সময় ঘরের ভেতরে
লাল মিয়া ও তার স্ত্রী অবস্থান করছিলেন এবং দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে
আটকানো ছিল বলে জানা যায়।

No comments