ঘাটাইলে দু’দিনে কোটি টাকার ফার্নিচার বিক্রি - TangailTimes24
  • সংবাদ শিরোনাম

    ঘাটাইলে দু’দিনে কোটি টাকার ফার্নিচার বিক্রি

    মো. নজরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক:

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে রয়েছে দেশের বৃহৎতম রেডিমেড ফার্নিচার হাট। উপজেলার ধলাপাড়ায় অবস্থিত এ হাট থেকে প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার প্রায় কোটি টাকার রেডিমেড ফার্ণিচার কেনা-ঁেবচা হয়। ঢাকা,চট্রগ্রাম,ময়মনসিংহ,জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কেনা-বেঁচার জন্য।

    ঘাটাইলে দু’দিনে কোটি টাকার ফার্নিচার বিক্রি
     

    ঘাটাইল সদর থেকে ১৪ কি.মি পূর্বে এবং ভালুকা-উথরা সড়কের সাগরদিঘী থেকে ১২ কি.মি পশ্চিমে বংশাই নদীরপাড়ে অবস্থিত ধলাপাড়া হাট। এ হাট থেকে প্রতি বৃহস্পতি ও সোমবার ৫শ থেকে ৮শ বিভিন্ন প্রকারের খাঁট,সোফাসেট,ড্রেসিং টেবিল,ডাইনিং টেবিল, সুকেজ,চেয়ার-টেবিল এবং দরজা-জানালা বেঁচা কেনা হয়।


    গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটে গিয়ে-ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ রেডিমেড পার্নিচার হাট ধলাপাড়া।


    কাঠের মধ্যে খোদাই করা বাহারি নকশায় এ হাটে ফুলবক্স, সেমিবক্স, বেগি খাট, বোম্বাই ও রাশিয়ান খাট পাওয়া যায়। দুই হাজার ৫শত টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের খাট পাওয়া যায় এই হাটে। এছাড়াও গোল ড্রেসিং টেবিল, ছয়কোনা ড্রেসিং টেবিল, তিনচাল ড্রেসিং টেবিল, দুইচাল ড্রেসিং টেবিল ও কানিশ ড্রেসিং টেবিল এবং লতা সোফা,হাতি সুড় সোফা,বল সোফা ও বক্স সোফাসেট কেনা-বেঁচা হয় এ হাটে। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন এ হাটের ক্রেতা।


    এ হাটে ঘাটাইল ছাড়াও মধুপুর,সখীপুর,বাসাইল,কালিহাতী,ভূয়াপুরের ক্রেতা-বিক্রেতারা অতি সহজেই ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় আসবার পত্র কেনা-বেঁচা করে থাকেন।


    কালিহাতীপ স্থানীয় ব্র্যাক ব্যাংক ব্যস্থাপক মো.আবির আজাদ এসেছেন ফার্নিচার কেনার জন্য। তিনি জানান, সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ভালো ফার্নিচার পাওয়া যায় এ হাটে।


    পছন্দসই বাহারি ডিজাইন, নাগালের মধ্যেই দাম, সড়ক ও নৌপথের পরিবহন সুবিধার জন্য দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়াঞ্চলের ঘাটাইল ধলাপাড়া ‘ফার্নিচার হাট'।
    উত্তর অঞ্চলের জেলা ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কেনার জন্য। শুধু ঘাটাইল উপজেলা নয় জেলার অন্যান্য ক্রেতা-বিক্রেতারা অতি সহজেই ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহ করেন এ হাট থেকে।


    রঘুনাথপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম স্ত্রী নিরালা এসেছেন, ঘরের খাট ও দরজা-জানালা কেনার জন্য। তিনি জানান, নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এ হাটের ফার্নিচার খুবই ভালো।


    এ হাটের অন্যতম বড় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো.আবদুল আজিজ জানান, ভৌগলিক অবস্থা এবং যাতায়াত সুবিধাজনক হওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ হাট ধলাপাড়া।


    মো. মোতালেব নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, এখন একটু কেনা-বেঁচা কম। তবে পহেলা বৈশাখ থেকে ৫ মাস কেনা-বেঁচা বেশি।


    ফার্নিচার ব্যবসায়ী আবু জাফর জানান, ধলাপাড়া হাট ফার্নিচারের জন্য বেশ বিখ্যাত। তাছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় আসবাবপত্রের জন্য দেশের অন্যতম বৃহৎ হাট ধলাপাড়া।


    তিনি জানান, হাটের ইজারা আরো কম হলে ক্রেতা-বিক্রেতা আরও বাড়বে। প্রতিটি খাটের জন্য ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা খাজনা দিতে হয় ক্রেতাকে।


    ধলাপাড়া কলেজের অধ্যাপক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটের সুনাম দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।


    হাটের ইজারাদার কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য ১৬ লাখ ১ হাজার টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি। যা গত কয়েক বছরের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি জানান,হাটের ইজারা কমলে ক্রতারাও ফার্নিচার প্রতি খাজনাও কম পেত। প্রতিটি খাটের জন্য ৫০ টাকা থেকে ২ শ টাকা খাজনা দিতে হয় ক্রতাকে।


    ধলাপাড়া বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটের সুনাম দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। এখানে সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার রেডিমেইড ফার্নিচার বিক্রি হয়।
    ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজহারুল ইসলাম মিঠু ভুইয়া জানান, কাঠের মান ও আসবাবপত্রের দামের কথা বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা এ হাটে আসেন। তাছাড়া ধলাপাড়া ফার্নিচার হাটের সুনাম দেশের সর্বত্রই রয়েছে।



    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728