টাঙ্গাইলের অর্ধশত গ্রামে ভাঙন! ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চায় নদীতীরের মানুষ - TangailTimes24
  • সংবাদ শিরোনাম

    টাঙ্গাইলের অর্ধশত গ্রামে ভাঙন! ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চায় নদীতীরের মানুষ

    রাইসুল ইসলাম লিটন:

    উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে যমুনায় পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর ও মির্জাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরের হাজারো মানুষ। চোখের সামনে নিমিষেই যমুনার পেটে চলে যাচ্ছে- বসত-ভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। ফলে ভাঙন কবলিত মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। সরিয়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি, অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না। 
     
    টাঙ্গাইলের অর্ধশত গ্রামে ভাঙন! ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চায় নদীতীরের মানুষ

     
     
    অসহায়ভাবে নিরবে ভাঙন দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগও কোনো কাজে আসছে না।

    টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির শনিবার (১ জুলাই) বিকালে ভূঞাপুর উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া, ভালকুটিয়া, খানুরবাড়ী, কোনাবাড়ী, মাটিকাটা সহ ভাঙনের শিকার বিভিন্ন এলাকা পরিদশন করেছেন। তিনি ভাঙনরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। এ সময় ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম
    বাবু, গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার সহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া, খানুরবাড়ী, কোনাবাড়ী, মাটিকাটা, সিরাজকান্দি, পাটিতাপাড়া, সারপলশিয়া, নলশিয়া, ন্যাংড়া বাজার, রায়ের বাশালিয়া, কুঠিবয়ড়া, অর্জুনা, জগৎপুরা, বাসুদেবকোল, রামাইল, মেঘারপটল; কালিহাতীর আলীপুর ও হাট আলীপুর; সদর উপজেলার চরপৌলি; নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম সলিমাবাদ, পশ্চিম তেবাড়িয়া, খাস ঘুনিপাড়া, পাইকশা মাইজাইল, ধুবড়িয়া ইউনিয়নের বলরামপুর, বাদে কাকনা ও কৃষ্ণ দিয়ার কুল, দপ্তিয়র ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর, টাটি নিশ্চিন্তপুর, ফয়েজপুর, বাককাটারি, বাজুয়ার টেক, ছিটকি বাড়ি ও মির্জাপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম সহ অর্ধশত গ্রামে যমুনার তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। 
     
    ভাঙনের কবলে পড়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত-ভিটা, ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি ও নানা স্থাপনা। ভাঙনের কারণে গৃহহীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায়, বাঁধে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে ত্রাণ সহায়তা নয় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায়।

    স্থানীয়রা জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীতে আশঙ্কাজনকহারে পানি বাড়ছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলে তিল ও পাটসহ নানা ধরণের ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলবাসী। মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাঙন কবলিতরা। 
     
    যমুনার ভাঙনের শিকার ভূঞাপুর উপজেলার চিতুলিয়াপাড়া গ্রামের জিলকদ জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে এক দিনেই তার বসতভিটা যমুনার পেটে চলে গেছে। বাড়ির পাশে থাকা জমিও যমুনা গিলে খেয়েছে। এখন সব হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তার থাকার জায়গাটুকুও নেই। ৫-১০ কেজি সরকারি অনুদানের চাল দিয়ে কি করবেন? এসব দরকার নেই। ভাঙন কবলিতরা ত্রাণ চান না, ভাঙনরোধে বাঁধ চান।

    একাই গ্রামের জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, তারা নদী ভাঙন এলাকার মানুষ। চোখের সামনে বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীর পেটে চলে যাচ্ছে। যারাই আসে- তারা শুধু দেখে চলে যায়। আগামি বছরই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেয়। সেই আগামি বছর আর আসেনা। পরের বছর ফের বন্যা আসে, শুরু হয় ভাঙন।

    প্রভাবশালীরা নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জিওব্যাগ ফেলে। তাদের বসত-ভিটা রক্ষায় কেউ কথা রাখে না। এখন তিনি অন্যের জায়গায়  থাকছেন।

    গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক সপ্তায় চিতুলিয়াপাড়ায়, খানুরবাড়ি, ভালকুটিয়া ও গোবিন্দাসীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। দিশেহারা হয়ে পড়েছে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের নদীপাড়ের মানুষ। শনিবার মাননীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তার নির্দেশনায়
    ক্ষতিগস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।

    টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালী এলাকায় সাড়ে তিন কিলোমিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। বন্যা মৌসুম পাড় হওয়ার পর এই প্রকল্পের আওতায় নাগরপুর অংশের কাজ করা হবে। এছাড়া ভূঞাপুর অংশে ইতোমধ্যে বাঁধ নির্মাণ
    করা হয়েছে। যেটুকুতে বাঁধ নির্মাণ বাকি রয়েছে আগামিতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

    টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গোবিন্দাসী, চিতুলিয়াপাড়া, কষ্টাপাড়া, খানুরবাড়ী ও পাটিতাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ভাঙনের বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728