সখীপুরে ব্রিজের কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার লাপাত্তা! দুর্ভোগে এলাকাবাসী - TangailTimes24
  • সংবাদ শিরোনাম

    সখীপুরে ব্রিজের কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার লাপাত্তা! দুর্ভোগে এলাকাবাসী

    তাইবুর রহমান, সখীপুর:

     
    টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস-জিসি-বহুরিয়া ইউপি সড়কের করটিয়া পাড়া বাজারের উত্তর পাশে কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে নির্মাণাধীন পিএসসি গার্ডার ব্রিজের কাজ ১ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২ বছরেও শেষ হয়নি।
    কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার লাপাত্তা! দুর্ভোগে এলাকাবাসী



    এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে একটি টেকসই ব্রিজের। সে দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের শক্তিশালী করণ প্রকল্প উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৩১ টাকা ব্যয়ে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার ব্রিজের কাজটি ঢাকার মাইন উদ্দিন নামক এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পায়। ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কাজটি শুরু হয়ে ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২/৩ মাস কাজটি শুরু করে অজ্ঞাত কারণে ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। 

     স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাগজপত্রে ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন দেখালেও উপজেলার করুটিয়াপাড়া বাজারের উত্তর পাশে কাকড়ার জোড়া নামক স্থানে নির্মাণাধীন পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির বাস্তবে মাত্র কয়েকটি পিলার, পাইলিং হয়েছে। কাজ ফেলে ঠিকাদার এখন উধাও। বারবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদার এলাকায় আসছে না। এতে প্রায় ২ বছরের অধিক সময় ধরে ব্রিজের দুই পাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১৫/১৬টি গ্রামের মানুষ।

     এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ জানান, বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি বলেন, কাজটি সময় মতো শেষ না করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা অফিস থেকে চিঠি দিয়ে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুম গেলে প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে অসমাপ্ত কাজটি শেষ করা হবে। 

    এদিকে, একই প্রকল্পের আওতায় ওই ব্রিজের দুই পাশে ১৮ ফুট প্রশস্ত করে সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণের কাজ অন্য ঠিকাদার শেষ করে।

    কালিদাস ও করুটিয়াপাড়া বাজার ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলে ওই ব্রিজের কারণে যানবাহন চলতে না পারায় কোনো মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। হাটবাজারগুলোতে আসতে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই ।

    ওই এলাকার একজন মাদ্রাসা শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ব্রিজটি সম্পন্ন না হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা সময় মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। এজন্য ১৫/১৬টি গ্রামের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে ।

    উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরকার মোহাম্মদ নূ‌রে আলম মুক্তা বলেন, ব্রিজটি ২ বছর ধরে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। ওই সড়ক চলাচলকারী ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগী, বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীদের আসা-যাওয়া করতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিকল্প সড়ক ঘুরে অনেক সময় লেগে যায়, এসব বয়োবৃদ্ধ মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানাই।

     

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728