টাঙ্গাইলে চাঁদা চেয়ে ব্যবসায়ীকে চিঠি, বিএনপির তিন নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
রাইসুল ইসলাম লিটন:
টাঙ্গাইলে মাছ ব্যাবসায়ীকে কিলার গ্যাংয়ের প্যাডে (হত্যাকারী দল) একটি চিঠি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় বিএনপির ৩ নেতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত ও শনিবার (২ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সন্তোষ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার সন্তোষ পুরাতন পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন(২৬), কাগমারী গ্রামের আব্দুল্লাহ হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন(২০), সন্তোষ বালুচরা গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে শাহ আলম(৫০), সন্তোষ পাঁচআনী বাজারের মেহের আলীর ছেলে জুবায়ের(৫২), সন্তোষ ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত জহের আলীর ছেলে গোলাম রাব্বানী(৫২)। এর মধ্যে রাব্বানী সদর উপজেলা বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি, শাহ আলম সাধারণ সম্পাদক ও জুবায়ের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তবে, টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইজাজুল হক সবুজ অভিযোগ করে জানান, বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, (৩১ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সন্তোষ এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী মো. আজাহারুল ইসলামের কর্মচারীর হাতে একটি চিঠি দেয় অচেনা এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে সেই চিঠি আজাহারুল ইসলামকে দেওয়া হয়। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, “চিঠি পাওয়ার পর তুই যদি বিষয়টি কারো সাথে শেয়ার করস বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাস, তাহলে তোকে কবর দেওয়ার জন্য তোর লাশ পরিবার খুঁজে না পাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। মনে রাখবি, প্রশাসন তোর সাথে সব সময় থাকবে না। আর বাচঁতে পারবি না। তোর সঠিক বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্তে তুইসহ তোর পরিবার সুরক্ষিত থাকবে।”ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, “দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসা করে যাচ্ছিস। এতে তোর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নাই। ৫ লাখ টাকা তোর কাছে কিছু না। তাই, আগামী আগস্টের ৩ তারিখ রোববার সন্ধ্যা ৭টায় একটি শপিং ব্যাগে করে কাগমারী মাহমুদুল হাসানের বাসার সামনে একটি গাছে ফরহাদের ছবি লাগানো আছে, সেই গাছের নিচে রাখার জন্য বলা হয়।
No comments